বাংলাদেশ ডেস্ক (কুয়েত): বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল রাখতে সবচেয়ে বড় অবদান প্রবাসীদের। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরছে প্রতিনিয়ত। তবে কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে ব্যাংক ও ইন্টারনেট বন্ধসহ বেশ কিছু কারণে ধস নেমেছিল রেমিট্যান্সে।
ছাত্র আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ‘রেমিট্যান্স শাটডাউন’ নামক কর্মসূচি দিয়েছিলেন প্রবাসীরা। কেউ টাকা জমিয়ে রেখেছিলেন আবার কেউ বেছে নিয়েছিলেন হুন্ডির পথ। সরকারের পতনের পর দেশ পুনর্গঠনের জন্য কুয়েতের বিভিন্ন রেমিট্যান্স হাউজে প্রবাসী বাংলাদেশির ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে রেমিট্যান্স কমেছে ৬৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা। জুলাই মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। যদিও তার আগের মাস জুনে এসেছিল ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।
রেমিট্যান্স হাউজে কাজ করেন এমন কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং ছাত্র জনতার বিজয়ের পর আবারও রেমিট্যান্স পাঠাতে একচেঞ্জগুলোতে ভিড় করছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশিরা খুব আনন্দের সাথে দেশে পরিবারের কাছে টাকা পাঠাচ্ছে।
হাসিনা সরকারের পতনের আগে এবং একদিন পর পর্যন্ত অর্থাৎ ১ থেকে ৬ আগস্টের মধ্যে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৯৫ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন ডলার। পতনের পর ৭ থেকে ১০ আগস্ট রেমিট্যান্স এসেছে ৩৮৭ দশমিক ১২ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে দুদিন ছিল সাপ্তাহিক ছুটি। সব মিলিয়ে চলতি (আগস্ট) মাসের প্রথম ১০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৪৮২ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন ডলার।
দেশকে নতুনভাবে গড়ার অঙ্গীকার কুয়েত প্রবাসীদের। দুর্নীতিমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন তারা। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে অর্থ দেশে পাঠাচ্ছে সেটা যেন পাচার না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার জোর দাবি জানান এসব রেমিট্যান্সযোদ্ধা।
এনআরবি৩৬৫/ এএমএম
[প্রিয় পাঠক, NRB365-এ আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ই-মেইল করুন hellonrb365@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
আরও পড়ুন:
রেমিট্যান্স পাঠিয়ে নতুন সরকারের পাশে থাকার ঘোষণা প্রবাসীদের