নিউজ ডেস্ক: প্রায় ১২ কোটি ভোটার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিবেন। এদের অনেকেই প্রথমবারের মতো ভোট দিবেন। তাই জেনে নেয়া যাক কীভাবে ভোট দিতে হবে।
ভোট দেয়ার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি লাগবেই তা না। তবে এনআইডি নম্বর, ভোটার নম্বর বা স্মার্ট কার্ড সঙ্গে থাকলে ভোটার তালিকা থেকে একজন ভোটারের জন্য তার নাম খুঁজে বের করতে সুবিধা হবে।
ভোট দেয়ার প্রক্রিয়া
ভোট দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি ধাপ পেরোতে হয়। জাতীয় নির্বাচন কমিশন থেকে ভোটারকে ছবিসহ ভোটার তালিকায় ক্রমিক নম্বর, ভোটার নম্বর, ভোটার এলাকা এবং কেন্দ্রের নাম আগেই জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
আপনি যা করবেন
প্রথমেই জেনে নিন আপনার ভোটকেন্দ্র কোনটি। এনআইডি-সহ সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে নির্ধারিত কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে। মনে রাখবেন, ৪টার মধ্যে যারা কেন্দ্রের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে থাকবেন শুধু তারাই সময় শেষ হওয়ার পরও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
আপনি কোন কেন্দ্রের ভোটার তা অনলাইনেও সহজেই পেয়ে যাবেন।
নির্ধারিত কেন্দ্রে দৃশ্যমান কোনো স্থানে একটি তালিকা পাবেন। সেই তালিকা থেকে জানতে পারবেন ওই কেন্দ্রের কোন রুমে আপনি ভোট দিবেন।
ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পর করণীয়
ভোটকক্ষে ঢোকার পর প্রথমে পোলিং এজেন্টদের সহায়তায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ভোটারকে শনাক্ত করবেন। শনাক্ত করার পর ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ভোটারের বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে অমোচনীয় কালির চিহ্ন লাগাবেন।
কোনো ভোটার অমোচনীয় কালির কলমের চিহ্ন লাগাতে অস্বীকৃতি জানালে অথবা তার যে কোনো আঙ্গুলে অমোচনীয় কলমের কালির চিহ্ন থাকলে তাকে ব্যালট পেপার দেয়া হয় না।
আঙুলে অমোচনীয় কালি লাগানোর পর ভোটারকে ব্যালট পেপার দেওয়ার আগে এর অপর পৃষ্ঠায় অফিসিয়াল সিল দিয়ে অনুস্বাক্ষর করবেন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার।
ব্যালট পেপারের সঙ্গে ভোটারকে একটি বর্গাকৃতির রাবার স্ট্যাম্প দেয়া হবে।
ব্যালট পেপার ভাঁজ করতে হবে সাবধানে
ব্যালট পেপার এবং রাবার স্ট্যাম্প নিয়ে ভোটার নির্ধারিত গোপন কক্ষে যাবেন। এরপর ব্যালট পেপারে থাকা পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে বরাদ্দ প্রতীকের ওপর রাবার স্ট্যাম্প দিয়ে সিল মারবেন। সিল যেন অন্য ঘরে বা দুই প্রতীকের মাঝামাঝি না পড়ে সেটা খেয়াল রাখতে হবে। দুইটি প্রতিকের মাঝে সিল দেয়া হলে ওই ব্যালটটি গণনার সময় বাতিল করা হবে।
ব্যালট পেপারে সিল দেয়ার পর সিলের কালি যাতে অন্য প্রতীকের ঘরে বা অন্য কোথাও না লাগে সেজন্য প্রতীক ও প্রার্থীর নামের ঘরের মাঝামাঝি লম্বালম্বি একটা ভাঁজ দিতে হবে। পরে ইচ্ছেমত ভাঁজ দেয়া যাবে।
ভাঁজ করা ব্যালট পেপার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার সামনে রাখা স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ফেলতে হবে।
ভোট দেয়া সম্পন্ন হলে রাবার স্ট্যাম্পটি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার কাছে ফেরত দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করতে হবে।
দাহ্য পদার্থ, আগ্নেয়াস্ত্র ও মোবাইল ফোন নেয়া বারণ
এনআইডি ও ভোটের স্লিপ ছাড়া আর কিছুই ভোটকেন্দ্রে নেয়া যাবে না। কোনো ধরনের দাহ্য পদার্থ, ম্যাচ, গ্যাস লাইটার কিংবা ধারালো বস্তুর মতো কিছুই সঙ্গে নেয়া যাবে না। এছাড়া মোবাইল ফোনও নিতে পারবেন না। ফোন সাথে থাকলেও সেটি বন্ধ রাখতে হবে।ভো
টকেন্দ্রে ঢোকার পর মোবাইল চালু রাখতে পারবেন না। কেন্দ্রের ভেতরের কোনো ছবি বা ব্যালটের ছবি অথবা কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলা যাবে না।
পোশাক
যে কোনো পোশাক পরে ভোট দিতে যাওয়া যাবে। তবে যদি নেকাব পরে থাকেন, তবে পোলিং এজেন্ট ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত হতে নেকাব খোলার অনুরোধ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই নেকাব খুলে পরিচয় নিশ্চিত করতে হতে পারে।
ভোট/এএমএম/টিটি
আরও পড়তে পারেন:
অ্যাডিনো ভাইরাসের নয়া প্রজাতি, ছড়িয়ে পড়ছে ভারতজুড়ে