আমেরিকা ডেস্ক: বাঙালি রাজনৈতিকভাবে অপছন্দ করে যেই দেশটিকে, সেটিআ তাদের স্বপ্নের দেশ। নাম তার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শক্তিশালী অর্থনীতি আর বিলাসী জীবনের হাতছানিতে অনেকের কাঙ্খিত গন্তব্য দেশটি। প্রত্যেক বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। বৈধ উপায়ের পাশাপাশি অবৈধ পথে যাওয়ার লোকের সংখ্যাও অগণিত।
জেনে রাখা ভালো, ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামের অন্তর্ভূক্ত ৩৯টি দেশের নাগরিকরা অফিসিয়াল মিটিং বা ছুটি কাটাতে চাইলে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার প্রয়োজন হয় না। বাংলাদেশ এই প্রোগ্রামের অংশীদার নয়। ফলে অবকাশ কাটানো বা ব্যবসায়িক কারণে যেতে হলে আপনাকেও ভিসা নিতে হবে।
যারা বৈধ উপায়ে যেতে চান, তাদের অধিকাশই জানেন না কিভাবে যেতে হবে বা আবেদন করতে হবে। বৈধ উপায়ে যারা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান তাদের জন্যই এই প্রতিবেদন।
* মার্কিন ভিসা সম্পর্কে কয়েকটি সাধারণ তথ্য:
১) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন দেশে থাকা দূতাবাস ও কনস্যুলেট অফিসের মাধ্যমে ভিসা ইস্যু করে থাকে। তবে আপনার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কারণ ও প্রয়োজন সম্পর্কে তারা আস্থা রাখলেই আপনাকে ভিসা দেয়া হবে।
২) যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত ৬ ধরনের ভিসা ইস্যু করে। এগুলো হলো:
ক. স্থায়ী বসবাসের জন্য অভিবাসী ভিসা
খ. পর্যটন বা ব্যবসার জন্য ভিজিটর ভিসা
গ. শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা
ঘ. মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করার জন্য বাগদত্তা ভিসা
ঙ. কানাডা ও মেক্সিকোর নাগরিকদের জন্য ব্যবসায়িক বা পেশাজীবী ভিসা
চ. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হয়ে অন্য কোনো দেশে যাওয়ার জন্য ট্রানজিট ভিসা
৩) প্রতি বছর বিভিন্ন দেশের ১০ লাখ মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিন কার্ড দিয়ে থাকে। এই কার্ডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নতুন স্থায়ী বাসিন্দা মনোনীত করে।
* অভিবাসী ভিসার ধরন:
অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই সঠিক ক্যাটাগরি বেছে নিতে হবে। যেমন:
১) পরিবারভিত্তিক ভিসা। যাদের পরিবারের সদস্য মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা তা এই ভিসা পাবেন।
২) কাজ বা চাকরির ভিসা। একজন মার্কিন নাগরিক নিয়োগকর্তা হিসেবে আপনাকে চাকরিতে যোগ দিতে অফার লেটার দিবেন। সেই অফার লেটারের বিপরীতে আপনি ভিসার আবেদন করবেন।
* যেভাবে অভিবাসী ভিসার আবেদন করবেন:
কাজ বা চাকরির ভিসার জন্য একজন মার্কিন নিয়োগকর্তার কাছ থেকে অফার লেটার প্রয়োজন হয়। আপনি যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান এবং সেই প্রতিষ্ঠান আপনার নামে অফার লেটার সংগ্রহ করে দেন তবে তা সঠিক কিনা যাচাই করে নিন। যাচাই না করে কোনোভাবেই এই অফার লেটারের বিনিময়ে চাওয়া অর্থ পরিশোধ করবেন না। কারণ, এই অফার লেটারটি ভূয়া কিনা তা নিশ্চিত হওয়া জরুরী।

New York’s Bangladeshi-dominated Jackson Heights. Photo: Collected from Facebook
* অভিবাসী ভিসার জন্য যা জানা জরুরী:
১) অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আপনাকে কারও স্পন্সর নিতে হবে অথবা অভিবাসী হিসেবে পিটিশন দিতে হবে।
২) পিটিশন অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। পিটিশনের অনুমোদন পেলে অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। এই আবেদন করতে হবে বিদেশে মার্কিন কনস্যুলেটের মাধ্যমে।
৩) তৃতীয় ধাপে আপনাকে কয়েকটি মেডিকেল টেস্ট করতে হবে।
৪) এবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সাক্ষাৎকারে যেতে হবে।
৫) সাক্ষাৎকার শেষে আবার অপেক্ষা করুন যতদিন পর্যন্ত আবেদনের বিষয়ে আপনাকে কোনো সিদ্ধান্ত না জানানো হয়।
* ডিভি লটারি
অভিবাসী ভিসা পাওয়ার আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি প্রোগ্রাম। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে যেসব দেশ অভিবাসীর হার যুক্তরাষ্ট্রে কম, সেসব দেশকে অগ্রাধিকার হিসেবে ধরে ডিভি লটারিতে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। তবে বাংলাদেশ থেকে আপাতত ডিভি লটারি প্রোগ্রামে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ নেই।
* অভিবাসী ভিসা পাওয়ার পর যা করবেন:
অভিবাসী ভিসা পাওয়ার পর আপনাকে ‘ইউএসসিআইএস’ নামে অভিবাসী ফি জমা দিতে হবে। ফি জমা দেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশের সময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাকে দেয়ার জন্য একটি সিল করা নথির প্যাকেট পাবেন। যা নির্ধারিত স্থানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার হাতে দিতে হবে।
নথি হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে আপনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে দেশটিতে প্রবেশ করবেন এবং ই-মেইলের মাধ্যমে আপনার কাছে পৌঁছে যাবে ‘গ্রিন কার্ড’।
* যখন অভিবাসী ভিসা নয়, আবেদন করতে হবে গ্রিন কার্ডের জন্য
১) আপনি যদি ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে থাকেন তাহলে আপনাকে অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে না। বরং আপনার সাম্প্রতিক স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে হবে।
এ জন্য আপনাকে নিজ দেশেও (বাংলাদেশে) ফিরতে হবে না। তবে অভিবাসী ভিসার আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
২) অবশ্যই আপনাকে কারও স্পন্সর নিতে হবে অথবা অভিবাসী পিটিশন জমা দিতে হবে।
৩) পিটিশন এবং অভিবাসী ক্যাটগরির ভিসার অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তারপর যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে হবে।
* অন অ্যারাইভাল ভিসাধারীরা ছাড়া অন্যরা যেভাবে ভিসা পেতে পারেন
১) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারীদের জন্য একটি বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে।
২) স্থায়ী বাসিন্দা বা বিদেশি নাগরিকদের ভিসার প্রয়োজন হবে। ভিসার জন্য আপনাকে অবশ্যই আবেদন করতে হবে। তবে নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকরা গ্লোবাল অ্যান্ট্রি প্রোগ্রামের সদস্যপদ পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন।
* শরণার্থী (অ্যাসাইলাম)
শরণার্থীর সংজ্ঞা: শরণার্থী বলা হয় এমন লোকজনকে যারা নিজ দেশে নির্যাতন-নিপীড়ন অথবা যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যদেশে নিরাপত্তার খোঁজ করেন।
আপনি যদি মনে করেন শরণার্থী হিসেবে আপনার সুরক্ষা প্রয়োজন, তাহলে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশন (ইউএনএইচসিআর) বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক অলাভজনক স্বেচ্ছ্বাসেবী সংস্থার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো একটিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে কাছের মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সাথে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন।
* আশ্রয়
শরণার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মানুষকে আশ্রয় দিয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদনের জন্য আপনাকে অবশ্যই কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।
* যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পেলে আপনি যেসব সুবিধা পাবেন
১) আশ্রয় পাওয়ার পর আপনি আপনার স্বামী/স্ত্রী ও সন্তানদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার অনুমতি পাবেন।
২) স্থায়ী বাসিন্দনার মর্যাদা ও সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
কোভিড-১৯ প্রসঙ্গ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে বিদেশি নাগরিকদের অবশ্যই কোভিড-১৯ এর পূর্ণ ডোজ টিকা নেয়া থাকতে হবে।
এনআরবি৩৬৫/এএমএটি
[প্রিয় পাঠক, NRB365-এ আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন hellonrb365@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
আরও পড়তে পারেন:
যেভাবে আবেদন করবেন শেনজেন ভিসার
মালয়েশিয়ায় বিশেষ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের ই-পাসপোর্ট
মার্চ থেকে রোম যাবে বিমানের ফ্লাইট