স্পোর্টস ডেস্ক: বিরাট কোলি ও শ্রেয়াস আয়ারের সেঞ্চুরিতে ৩৯৭ রানের রেকর্ড সংগ্রহ গড়েছিল ভারত। পরে কেন উইলিয়ামসন ও ড্যারিল মিচেল দারুণ ব্যাটিং করলেও মোহাম্মদ শামির পেস আগুন ছাপিয়ে জিততে পারেনি নিউজিল্যান্ড। ব্লাক ক্যাপদের ৭০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে গেছে রোহিত শর্মার ভারত।
৪৮ দশমিক ৫ ওভারে ৩২৭ রানে গুটিয়ে গেছে নিউজিল্যান্ড। ভারতের পক্ষে বোলিংয়ে একাই ৭ উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ শামি। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড এটি। এর আগের রেকর্ডটি ছিল গ্যারি গিলমোরের। ১৯৭৫ সালে ১৪ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন গিলমোর।
ভারত এ নিয়ে চতুর্থবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল। ১৯৮৩ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠে শিরোপা জিতেছিল কপিল দেবের ভারত। ২০০৩ সালে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরেছিল সৌরভ গাঙ্গুলীর ভারত। ২০১১ সালে ফাইনালে উঠে শিরোপা জিতে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। এবার রোহিত শর্মার নেতৃত্বে আবারও ফাইনালে উঠল ভারত।
আগামী ১৯ নভেম্বর আহমেদাবাদে ফাইনাল খেলতে নামবে রোহিত শর্মার দল। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত টানা দশ ম্যাচ জিতেছে ভারত।
সেমির লড়াইয়ে ভারত বড় জয় পেলেও মাঝখানে বেশ ভালোই চাপে পড়েছিল। মোহাম্মদ শামি শুরুতেই পরপর দুই উইকেট এনে দিলেও পরে কেন উইলিয়ামসন ও ড্যারিল মিচেল ১৪৯ বল খেলে ১৮১ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন। তারপর সেই শামিই উদ্ধার করেছে ভারতকে।
বুধবার (১৫ নভেম্বর) মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ৩৯৭ রানের সংগ্রহ নিয়ে বোলিং করতে নেমে নিউজিল্যান্ডকে শুরুতেই বড় ধাক্কা দেন শামি। দলীয় ৩০ রানের মাথায় ১৫ বলে ১৩ রান করা ডেভন কনওয়েকে ফেরান।
শামি টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রাচিন রবীন্দ্রকে ফেরান ব্যক্তিগত ১৩ রানের মাথায়। এরপর ইনজুরি ফেরত কেন উইলিয়ামন ও ড্যারিল মিচেল কিউইদের সঠিক পথেই নিয়ে যাচ্ছিলেন।
ড্যারিল মিচেলের বিপক্ষে তেমন কিছুই করতে পারেননি ভারতীয় বোলাররা। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১৪৯ বল খেলে ১৮১ রান সংগ্রহ করে কিউইরা।
শামির লেগ স্ট্যাম্পের বলটি ফ্লিক করতে চেয়েছিলেন কেন উইলিয়ামসন। কিন্তু বলটা হালকা টেনে দিয়েছিলেন শামি। উইলিয়ামসনের শট সীমানা পার হয়নি। সীমানায় বল জমা পরে সূর্যকুমার যাদবের হাতে। ৭৩ বলে ৮টি চার ও ১টি ছয়ে ৬৯ রান করে ফেরেন উইলিয়ামসন। এক বল পর নতুন ব্যাটার টম লাথামকে দুর্দান্ত এক বলে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন শামি।
২ উইকেটে ২২০ নিউজিল্যান্ড মুহূর্তেই ৪ উইকেটে ২২০ হয়ে পড়ে। তারপর গ্লেন ফিলিপসকে নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে টানছিলেন মিচেল। পঞ্চম উইকেটে ৬১ বলে ৭৫ রান তোলেন দুজন। জাসপ্রিত বুমরাহ ৩৩ বলে ৪১ রান করা ফিলিপসকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন। পরে মিচেলকে ফেরান শামি। ১১৯ বল খেলে ৯টি চার ৭টি ছয়ে ১৩৪ রান করা মিচেল লেগ সাইডের বল ফ্লিক করতে গিয়ে টাইমিং করতে পারেননি। ক্যাচ দিয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজার হাতে।
এরপর আর দাঁড়াতে পারেননি বাকিরা ব্যাটাররা। ৪৮ দশমিক ৫ ওভারে ৩২৭ রানে গুটিয়ে গেছে নিউজিল্যান্ড। মোহাম্মদ শামি ৯ দশমিক ৫ ওভারে ৫৭ রানে ৭ উইকেট নিয়েছেন। একটি করে উইকেট পেয়েছেন জাসপ্রিত বুমরাহ, মোহাম্মদ সিরাজ ও কূলদ্বীপ যাদব।
এর আগে রানের পাহাড় গড়ে ভারত। টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে স্বাগতিকদের উড়ন্ত সূচনা এনে দেন রোহিত শর্মা। ৪টি করে চার-ছক্কায় ২৯ বলে ৪৭ রান করেন রোহিত। অপর ওপেনার শুভমান গিল এগুচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু ৬৬ বলে ৮০ রান করা গিল ব্যথা নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন বলে সেঞ্চুরি পাননি।
বিরাট কোলি ও শ্রেয়াস আয়ার সেঞ্চুরি হাকিয়েঁছেন। এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে শচীন টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৫০ সেঞ্চুরির মালিক হয়েছেন বিরাট কোলি। ১১৩ বলে ৯টি চার ২টি ছক্কায় ১১৭ রান করেছেন কোলি।
শ্রেয়ায় আয়ার আউট হয়েছেন ৭০ বলে ৪টি চার ৮টি ছয়ে ১০৫ রান করে। শেষ দিকে ২০ বলে ৪৯ রান করেছেন লোকেশ রাহুল। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ১০ ওভারে ১০০ রান খরচ করে ৩ উইকেট নিয়েছেন টিম সাউদি।
এনআরবি৩৬৫/এএমএম
[প্রিয় পাঠক, NRB365-এ আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন hellonrb365@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]