বর্তমানে বাংলাদেশে যাত্রী পরিবহন পরিচালনা করছে চারটি সরকারি ও বেসরকারি বিমান সংস্থা। এর মধ্যে বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, এয়ার অ্যাস্ট্রা ও নভোএয়ার। বন্ধ হয়ে যাওয়া কার্গো এয়ারলাইন্সের মধ্যে রয়েছে অ্যারো বেঙ্গল এয়ারওয়েজ,এয়ার পারাবাত, বেস্ট এয়ার, এভিয়ানা এয়ারওয়েজ, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ও জিএমজি এয়ারলাইন্স।
বাংলাদেশের বিমান সংস্থাগুলোর ধারাবাহিক পরিচিতির প্রথম পর্বে রয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সম্পর্কে।
ইউএস-বাংলা: ইতিহাস ও রুট:
ক্রিয়াশীল বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে তারা ইতোমধ্যেই প্রশংশিত হয়েছে। এর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের পরিধি দিন দিন বাড়িয়ে চলছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সবাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ইউএস-বাংলা গ্রুপের একটি সহায়ক প্রতিষ্ঠান। ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই দুইটি উড়োজাহাজ দিয়ে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা কার্যক্রম শুরু করে । ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর উদ্বোধনী ফ্লাইট ছিল সৈয়দপুর (নীলফামারি) ও চট্টগ্রামে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও যশোরের মধ্যে যাত্রীসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে। বর্তমানে দেশের মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, কক্সবাজার, সৈয়দপুর, সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহীতে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ইউএস-বাংলার হাব ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এছাড়া ফোকাস সিটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রামকে (শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর)।
সফলভাবে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার পর কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক রুটে তাদের সীমানার বিস্তৃতি ঘটান। প্রথম আন্তর্জাতিক গন্তব্য ছিল মালদ্বীপের রাজধানী মালে-তে, ২০২১ সালের ১৯ নভেম্বর।
বর্তমানে ইউএস-বাংলা পরিচালিত আন্তর্জাতিক রুটগুলো হচ্ছে: গুয়াংজু (চীন), কলিকাতা (ভারত), চেন্নাই (ভারত), কুয়ালালামপুর (মালয়েশিয়া), কাঠমান্ডু (নেপাল), মাস্কাট (ওমান), দোহা (কাতার), সিঙ্গাপুর সিটি (সিঙ্গাপুর), ব্যাংকক (থাইল্যান্ড), মালে (মালদ্বীপ), দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ও শারজাহ (সংযুক্ত আরব আমিরাত)। তবে কাঠমান্ডু বিমানবন্দবে সংঘটিত দুর্ঘটনার পর সেখানে যাত্রীসেবা স্থগিত রাখা হয়।
বাস সংযোগ:
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স খুলনার যাত্রীদের জন্য যশোর বিমানবন্দর থেকে যাতায়াতের ব্যবস্থা রেখেছে। স্ভর্প ভাড়ায় ওয়াইফাই সুবিধাসহ যাত্রীদের জন্য বাসের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও রংপুরের যাত্রীদের জন্য সৈয়দপুর থেকে রয়েছে বিনামূল্যে পরিবহন সুবিধা।
ইউএস-বাংলার বিমানবহর:
ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ইউএস-বাংলার রয়েছে ১৮টি বিমান। বহরে রয়েছে বোয়িং ৭৩৭-৮০০, এয়ারবাস এ৩২১এলআর, এয়ারবাস এ৩৩০-২০০, এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০, এটিয়ার ৭২-৬০০, বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ এবং ডি হ্যাভিল্যান্ড কানাডা ড্যাশ ৮-৪০০ বিমান।
ভ্রমণের জন্য কেন ইউএস-বাংলা বেছে নিবেন?
দেড় কোটিরও বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাস করছেন। এছাড়াও প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ব্যবসা, চিকিৎসা বা ভ্রমণের উদ্দেশে দেশের বাইরে যান। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যাত্রীরা বেছে নেন বিদেশি বাহন। কিন্তু আমাদের দেশের কোনো এয়ারলাইন্স ব্যবহার করলে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকা দেশেই থেকে যাবে। বিশ্বের প্রায় সবদেশের নাগরিকরাই ভ্রমণের জন্য নিজের দেশের বিমানকেই প্রথম পছন্দের তালিকায় রাখেন। এক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি। অনেকেই মনে করেন, দেশের এয়ারলাইন্সগুলোর মান খুবই খারাপ। বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বিশ্বমানের সেবা দিচ্ছে। তাই যেসব রুটে ইউএস-বাংলাসহ বাংলাদেশি বিমান সংস্থাগুলোর রুট চালু আছে সেসব ক্ষেত্রে দেশের বিমান ব্যবহার করা আমাদের দায়িত্ব।
এনআরবি৩৬৫/এএমএম
[প্রিয় পাঠক, NRB365-এ আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন hellonrb365@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]