আমেরিকা ডেস্ক (যুক্তরাষ্ট্র): শপথ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ইতিহাস সৃষ্টি করে ডোনাল্ড ট্রাম্প চার বছর পর ফিরে এলেন হোয়াইট হাউসে। নির্বাহী ক্ষমতার সীমা বাড়ানো, লাখ লাখ অভিবাসীকে বহিষ্কার, রাজনৈতিক শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়া এবং বিশ্বমঞ্চে আমেরিকার ভূমিকা পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

Numerous celebrities including Elon Musk, Mark Zuckerberg participated in Donald Trump’s swearing-in ceremony. Photo: Collected
২০ জানুয়ারি সোমবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১২টার দিকে (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা) শপথ নেন তিনি। গেল বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে পরাজিত করে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরলেন তিনি। খবর: ফক্স নিউজ, বিবিসি।
প্রায় আড়াইশ’ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস সৃষ্টি করে ৭৮ বছর বয়সী ট্রাম্প মাত্র দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি প্রথম মেয়াদের পর পরাজিত হয়ে চার বছর পর আবার জয়ী হয়ে ক্ষমতায় ফিরে এসেছেন। এর আগে ১৮৯০-এর দশকে গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড চার বছর পর দ্বিতীয় মেয়াদে জয়লাভ করেছিলেন।
শপথের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় ক্রিস্টোফার ম্যাকিওর ‘ওহ, আমেরিকা’ গানের মাধ্যমে। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিরাও। ছিলেন বিদায়ী ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন এবং সেকেন্ড জেন্টলম্যান ডগ এমহফসহ বিদায়ী প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে যোগদানের আগে হোয়াইট হাউসে চা পান ও বৈঠক করেন বাইডেন ও ট্রাম্প। এরপর তিনি বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে একটি লিমোজিনে চড়ে হোয়াইট হাউস থেকে ক্যাপিটল হিলে পৌঁছেন।
হোয়াইট হাউসের উত্তর পোর্টিকোতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ওয়েলকাম হোম’ বলে স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট বাইডেন। হোয়াইট হাউসে প্রবেশের আগে সাংবাদিকরা চিৎকার করে প্রশ্ন করলেও বাইডেন বা ট্রাম্প উত্তর দেননি। আজ প্রথমবারের মতো এই দুই নেতার দেখা হয়েছে।
এরপর জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘ঈশ্বর আমাকে বাঁচিয়ে রাখার কারণ আছে। শিগগিরিই পরিবর্তন আসবে।’ তিনি জানান, সোমবারই মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হবে।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের শপথ উপলক্ষ্যে সোমবার ওয়াশিংটনের সর্বত্রই ছিল সাজসাজ রব। নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে দেয়া হয়েছিল পুরো শহর। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ২৫ হাজার সদস্য এ অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠান সাধারণত খোলা স্থানেই করা হয়। কিন্তু তীব্র ঠাণ্ডার কারণে কংগ্রেস ভবনের ভেতরে এবার অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়। ফলে এবার বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের সুযোগ ছিল না। সেখানে মাত্র ২০ হাজার অতিথির বসার স্থান রয়েছে। যারা ভেতরে ঢোকার টিকিট পাননি, তাদের জন্য ন্যাশনাল মলে বড় স্ক্রিনে অনুষ্ঠান সরাসরি উপভোগ করার ব্যবস্থা রাখা হয়। শপথের পর ট্রাম্প ক্যাপিটল হিল থেকে হোয়াইট হাউসে যান জমকালো প্যারেডের মাধ্যমে। ট্রাম্পের সম্মানে ক্যাপিটল রোটুন্ডায় কুচকাওয়াজও আয়োজন করা হয়।
ট্রাম্পের এই শপথ অনুষ্ঠানে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্টদের পাশাপাশি প্রযুক্তি জগতের শীর্ষস্থানীয় ধনী ব্যক্তিদের উপস্থিতি ছিল বড় চমক। ইলন মাস্ক, জেফ বেজোস, মার্ক জাকারবার্গ এবং টিকটকের প্রধান নির্বাহী শৌ চিউসহ আরও অনেকে এই অনুষ্ঠানে ভিআইপি আসনে ছিলেন। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং বারাক ওবামাও উপস্থিত ছিলেন।
শুধু তা-ই নয়, অতিথি আসনে ছিলেন ২০১৬ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিপক্ষ হিলারি ক্লিনটন এবং বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও। প্রথাগতভাবে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো না হলেও ট্রাম্প ইতালি ও হাঙ্গেরির ডানপন্থি নেত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও ভিক্টর অরবান, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার মিলেই এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
এনআরবি৩৬৫/এএমএম/টিটি
[প্রিয় পাঠক, NRB365-এ আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ই–মেইল করুন hellonrb365@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
আরও পড়তে পারেন:
পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন জাস্টিন ট্রুডো
নিউইয়র্কে চালু হলো ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কনস্যুলার পরিষেবা
মার্কিন নির্বাচনে জয়ী ৫ বাংলাদেশি