লেসা সুসান; টরেন্টো, কানাডা থেকে: ২০১৪ আমি ১৫ দিনের জন্য ডেনমার্কে। ফিরবো ১৮ই ডিসেম্বরে। ওখানে এমন সময়ে সূর্য ডুবে ৩টার দিকে। সূর্য দেখা যায় দুই বা তিন ঘন্টার জন্য কখনও দেখাও যায় না। আবহাওয়ার কারণে এমনিতেই মনটা ডিপ্রেশনে থাকে।
১৬ই ডিসেম্বরে আমার মনে হলো কেনো আমি দেশে নেই? আমি দেশকে মিস করছি, আমি কেনো টিভিতে ১৬ই ডিসেম্বরের অনুষ্ঠান দেখতে পাচ্ছি না? আমি কেনো বাংলা বলতে পারছি না? আর হাউমাউ করে ভিতর থেকে কান্না।
সেদিন মনে হয়েছিলো দেশ আমার, আমি বাংলাদেশের সন্তান। বাংলা বলার জন্য অস্থির হয়েছিলাম। দেশি খাবার খেতে পারছি না কেনো? কেনো এতো ঠাণ্ডা? কেনো সূর্য দেখি না? আর সেই আমি এখন ৫ বছর দেশের বাইরে। খুব খুব মিস করি।
আমার মনে হয়, মাঝে মাঝে বুকে জড়িয়ে যদি মাটির গন্ধ নিতে পারতাম! বাংলার মাটির গন্ধটা আর এদেশের মাটির গন্ধটা আলাদা মনে হয় আমার কাছে। আমি আর আমার ছেলে এখনও দেশি খাবারের জন্য পাগল। এদেশিয় খাবারে অভস্ত্যতা হয় নি। সময়ে খাই এদেশিয় খাবার, কিন্তু মন ভরে না। আমাদের দূর্নীতি ছাড়া আমার কাছে মনে হয় আমরা অনেক ভালো জাতি। কর্মঠ আমরা, বুদ্ধিমান আমরা।
আবহাওয়ার দিক থেকে আমার মনে হয়, বাংলাদেশের অবস্থান খুবই সুন্দর। দিন রাতের স্থায়িত্বটা দারুণ। বেশি ছোট দিন নেই, বেশি বড়ো দিন নেই। বেশি ঠাণ্ডা নেই, বেশি গরম নেই। আমি বাংলাদেশ কে মিস করি, আমি বাংলাদেশের সন্তান।
ইদানিং মনে হয়, আমার এ জায়গাটা একটা বাংলাদেশ। মনে হয় নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডা লসএনজেলস এগুলো বিদেশ। এখানের বাসাবাড়ি পরিবেশ বাংলাদেশের মতো লাগতে শুরু করেছে আমার কাছে। মানে ভালোবাসতে শুরু করেছি টরোন্টো শহরকে। আপন হতে চলেছি এ শহরের। আমার দ্বিতীয় জন্ম এ শহরে হয়েছে।
এনআরবি৩৬৫/এমএএম
[প্রিয় পাঠক, NRB365-এ আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ই-মেইল করুন hellonrb365@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]