এশিয়া ডেস্ক (বাংলাদেশ): সাংবাদিক, সাহিত্যিক বিপ্লবী ঋষি রণেশ দাশগুপ্তের স্মৃতি বিজরিত বাংলাবাজারের বিউটি বোর্ডিংয়ে রণেশ দাশগুপ্ত স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগে তার ১১৩তম জন্মজয়ন্তি উদযাপিত হয়েছে।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পাঠাগারের সভাপতি ইফতেখার পাভেল, সঞ্চালনা করেন বিকাশ সাহা। আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কলামিস্ট মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু, লেখক মোনায়েম সরকার, সিনিয়র সাংবাদিক নাসিমুন আরা হক মিনু, সংস্কৃতিজন সোহরাব উদ্দীন, দৈনিক সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার করিম, সংগঠক গোলাম রাব্বী খান।
সিনিয়র সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু বলেন, আলো দিয়ে আলো জ্বালানোর কাজটি করেছেন রণেশ দা। তিনি আলো দিয়ে আলোকিত করেছেন সেই আলো ছড়িয়ে দেবার কাজটি আমাদের করতে হবে। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সাহিত্যের আলো পৌঁছে দিতে হবে।
সিনিয়র সাংবাদিক নাসিমুন আরা হক মিনু বলেন, রণেশ দা’র সংস্পর্শে আসা যেকোন মানুষের জন্য অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা। আমি ধন্য তার সান্নিধ্যে এসে। তিনি ঋষি ছিলেন। তার সৃষ্টি এবং চিন্তা অনন্য অসাধারণ। তিনি সময় ও কালকে ছুঁতে পারতেন।
সংস্কৃতিজন ও সাংবাদিক সোহরাব হোসেন বলেন, আমাদের সংস্কৃতির দিকপাল রণেশ দা। তার প্রতিটি লিখা মৌলিক। আজকে আকাশ সংস্কৃতির এই সময়ে রণেশ দাশগুপ্ত চর্চা জরুরী। তাহলেই মুক্তি মিলবে।
দৈনিক সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার করিম বলেন, আমাদের সংস্কৃতি চর্চা রণেশ দা’কে বাদ দিয়ে করলে তা হবে অসম্পূর্ণ। বাংলা সাহিত্যের রেনেসাঁর যুগে তার সৃষ্টি এখনও আলোড়িত করে আমাদের।
অন্যান্যরা বলেন, পাঠাগার আন্দোলন আজ জরুরী হয়ে গেছে। দেশের বর্তমান অবস্থায় শোষণ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে রণেশ দাশগুপ্তের সাহিত্য ও দর্শণ চর্চা করা এবং তা ছড়িয়ে দিতে হবে। পাঠাগার আন্দোলন হবে সেই উদ্যোগ। আসুন আমরা আজকের এই দিনে রণেশ দা’কে স্মরণ করি এবং তার আলোতে আলোকিত হই।
উল্লেখ্য, ১৯১২ সালের ১৫ জানুয়ারি আসামের রণেশ দাশগুপ্তের জন্ম হয়। শিক্ষা জীবন বাঁকুড়ায়, কলকাতা সিটি কলেজ পরে বাংলাদেশের বজ্রমোহন কলেজে। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে পরায় তিনি জীবনের শুরুতে সোনার বাংলা পত্রিকায় কাজ শুরু করেন। এরপর তার লিখনিতে বাংলা সাহিত্যে নতুন এক ধারা সৃষ্টি হয়। শুধু লিখার মধ্যে তিনি তার কাজ সীমাবদ্ধ করে রাখেননি। তিনি লেখক সোমেন চন্দের সাথে গড়ে তুলেন প্রগতি লেখক সংঘ। কালজয়ি সাহিত্যিক সত্যেন সেনের সাথে গড়ে তুলেন উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী। তিনি মানুষের সাথে থেকে তাদের জীবনের পরিবর্তনের জন্য কাজ করতেন তাই ১৯৫৬ সালে ঢাকা পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তাঁতীবাজার অঞ্চলে। তার লেখায় মার্কসবাদী দর্শন ফুটে উঠতো এবং তার লেখালেখির সময়টা বাংলা সাহিত্য সাধু ভাষা থেকে চলিত ভাষায় প্রতিষ্ঠা হচ্ছিল, তিনি এই ভাষার প্রকাশটি আরও প্রাঞ্জল করেন।
এনআরবি৩৬৫/ এএমএম
[প্রিয় পাঠক, NRB365-এ আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ই-মেইল করুন hellonrb365@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
আরও খবর পড়ুন:
মালয়েশিয়ায় সংস্কৃতি চর্চায় বাংলাদেশ ফোরাম অ্যাসোসিয়েশন
গ্যালারি চিত্রকে শুরু হচ্ছে চিত্র প্রদর্শনী
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অনুপ্রেরণা নেতাজী সুভাষ